What is Anthology/ Omnibus film: Things You Should Know
সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে “ইতি, তোমারি ঢাকা” যেটিকে নির্মাতারা দাবী করছেন বাংলাদেশের প্রথম অমনিবাস চলচ্চিত্র। এই অমনিবাস চলচ্চিত্রের চর্চা ফিল্মের দুনিয়ায় বেশ আগে থেকেই হয়ে আসছে, খুঁজে পেতে দেখলে সকল সিনেমাপ্রেমিই আবিষ্কার করবেন যে জেনে বা না জেনে অনেক অ্যানথোলজি ফিল্মই সবারই কম বেশি দেখা আছে। আজকের এই লেখায় আমরা অমনিবাস ফিল্ম সম্পর্কে সাধারণ ধারনা নিবো, সাথে সাথে জেনে নিবো গুরুত্বপূর্ন ও মাস্ট ওয়াচ কিছু অমনিবাস চলচ্চিত্রের নাম। তিন অংশের লেখায় আমরা প্রথমে জানবো অ্যানথোলজি ফিল্মের সাধারণ সংজ্ঞা, এরপরের অংশে জানবো এর সম্ভাব্য প্রকারভেদ এবং একেবারে শেষ অংশে বোঝার চেষ্টা করবো এটি কিভাবে অন্যান্য চলচ্চিত্র ঘরানা থেকে ভিন্ন।
বি.দ্র.: এই লেখা অমনিবাস চলচ্চিত্রের উৎস, বিবর্তন কিংবা ক্রমবিকাশ নিয়ে আলাপ করবে না বরং বোঝার স্বার্থে ট্রেসেবল ও সহজে এক্সেস করা যায়, পরিচিত এমন কিছু অমনিবাস চলচিত্রের উদাহরণ ও তাদের বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা করবে। ফিল্ম নিয়ে আগ্রহ রাখেন, এমন যে কেউ, লেটস ডাইভ ডিপার টুগেদার এন্ড এনরিচ আওয়ার সিনেমাটিক নলেজ!
প্রথম অংশঃ অ্যানথোলজি/ অমনিবাস ফিল্ম কি?
কয়েকটি ক্ষুদ্র চলচ্চিত্রের (যেমন শর্ট ফিল্ম) সমষ্টি যেগুলো আলাদা আলাদা ভাবে প্রত্যেকেই স্বাধীন ও স্বয়ংসম্পূর্ণ তবে... এদের মধ্যে একটি সাধারণ ব্যাপার/ কমন ফ্যাক্টর থাকবে।
এই স্বাধীন, স্বয়ংসম্পূর্ণ চলচ্চিত্রগুলো যখন একসাথে দেখা হবে, সেটির সম্মিলিত প্রভাব অবশ্যই আলাদা একেকটি করে দেখার থেকে অনেক ভিন্ন, অনেক জোরদার হবে।
সাধারণত অ্যানথোলজি ফিল্মে একাধিক নির্মাতা থাকে ( নির্মাতা ২ জন থেকে ২২ জন বা তারও বেশি হতে পারে তবে ব্যতিক্রম দূর্লভ নয় যেমন জিম জারমুশের “ নাইট অন আর্থ”/২০০৪ অথবা ড্যামিয়েন সিফ্রনের ওয়াইল্ড টেইলস /২০১৪) অথবা ডেভিড ওয়েনের “দ্য টেন”/২০০৭)।
কমন ফ্যাক্টরটি হতে পারে একটি বস্ত, একটি অঞ্চল অথবা একটি থিম। অর্থাৎ ধরি, যদি অ্যানথোলজিটি ৪ টি অংশের সমন্বয়ে( ৪টি শর্ট ফিল্ম) নির্মিত হয় তবে সেই ৪ টি অংশ কেউ যদি একবারে না দেখে একটি একটি করে দেখে তবে সে ৪জন নির্মাতার ৪টি শর্টফিল্মে দেখার অনুভূতি পাবে, একসাথে দেখলেও যে পাবে না এমন নয় তবে তখন সে আবিষ্কার করবে যে এই ৪টি আলাদা আলাদা পরস্পর থেকে বিচিত্র ভিন্ন নির্মাতার তৈরি শর্টফিল্মে একটি “কমন” বিষয় উপস্থিত বেশ প্রকট ভাবে লক্ষ্য করা যাচ্চে, যেন নির্মাতা দর্শকদের বলছেন”ব্যাপারটি টের পেয়েছেন তো?” এই কমন বিষয়টি-ই মূলত অ্যানথোলজি কে সংজ্ঞায়িত করে। এই কমন বিষয়টি নির্ধারন করে অ্যানথোলজি ফিল্মের গতি, প্রকৃতি, বৈশিষ্ট্য ও আচরণ নিয়ে আমরা আজকের আলাপ পেয়াজের দামের মতো বৃদ্ধি করতে থাকবো। উদাহরণ দেই, আরো ভালো ভাবে বোঝা যাবে তাহলে।
দ্বিতীয় অংশঃ সম্ভাব্য প্রকারভেদ
সহজ করে বুঝতে গেলে, একাধিক শর্ট ফিল্ম থাকবে যেগুলো পরস্পরের সাথে যুক্ত থাকতে পারে নিম্নোক্ত ফ্যাকটরের মাধ্যমেঃ১) কমন থিম/ ভাব
২) কমন সেটিং/ আবহ
৩) কমন ঘটনা সুত্র
এই “শর্টফিল্ম” বা “শর্ট ফিল্ম” দৈর্ঘ্যের সিনেমা গুলো সাধারণত একাধিক নির্মাতা পরিচালনা করেন। উদাহরণ এর মাধ্যমে আমরা অতি সহজে ধরে ফেলতে পারবো অ্যানথোলজি কি, কেন ও কিভাবে।
অ্যানথোলজি/ অমনিবাস চলচ্চিত্র হতে পারে একটি অতি সাধারণ বস্ত যেমন ২০ টাকার নোট নিয়ে(কমন বস্ত, উদাহরণ Twenty Bucks )কিংবা একটি ব্যস্ত শহর যেমন নিউইয়র্ক বা প্যারিস (কমন অঞ্চল যেমন New York Stories বা Paris, je t'aime ) কিংবা যৌনতা নিয়ে (কমন থিম যেমন Lust Stories) বা কম্পোজিট/ জটিল থিম (কমন থিম যেমন Love, Death & Robots যেখানে প্রতিটি এপিসোডের সাথে লাভ/ডেথ/রোবোট এই তিনটির কোনো না কোনো সম্পর্ক আছে অথবা Heavy Metal ( কমন বস্ত /মহাজাগতিক বস্ত লকনারের কন্ঠ থেকে বিচিত্র ঘটনাবলির বয়ান)।
কমন থিম/ ভাব নিয়ে নির্মিত এন্থোলজিঃ
১) The Ballad of Buster Scruggs: কোয়েন ভাইরা ওয়েস্টার্ন ঘরানা কে কেন্দ্র করে ৬ টি গল্পে নির্মান করেছেন এই অ্যানথোলজি ফিল্ম। প্রত্যকেটি গল্প একটি আরেকটি থেকে আলাদা, বিচিত্র, ভিন্ন তবে এদের সবার কমন থিম হচ্ছে ওয়েস্টার্ন দুনিয়ার জীবন-ধারা।
২) Eros: প্রেম-কামনা ও যৌনতা নিয়ে নির্মিত এই অ্যানথোলজি ফিল্মের নির্মাতাগণের নামই যথেষ্টঃ ওং-কার ওয়াই, সোডেরবার্গ আর মাইকেল এঞ্জেলো আন্তোনি।
৩) Love, Death & Robots: সাই-ফাই, থ্রিলার, হরর ঘরানার ১৮টি দুর্দান্ত শর্ট ফিল্ম নিয়ে নির্মিত টিম মিলার ও ডেভিড ফিঞ্চারের অমনিবাস। মজার ব্যাপার হচ্ছে, এই দুজন ১৯৮১ সালের Heavy Metal নামক অমনিবাস কে রিবুট করে এই অমনিবাস চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন। এই হেভি মেটালের বিষয় বস্তুও লাভ,ডেথ ও রোবটসের মতো বিচিত্র, শ্বাসরুদ্ধকর ও চ্যালেঞ্জিং! পরবর্তীতে এর একটি সিকুয়েল ও মুক্তি পায় Heavy Metal 2000 শিরোনামে। তবে, দুটোই প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য নির্মিত, ১৮ এর নিচে কোনোক্রমেই কোনো দর্শকের জন্য উপযোগী নয়।
৪) Kwaidan: Masaki Kobayashi নির্মিত জাপানী লোকসাহিত্যের উপর হরর/সুপার ন্যাচারাল অমনিবাস চলচ্চিত্র। কান চলচ্চিত্র উৎসবে জুরি পুরষ্কার ও একাডেমী পুরষ্কার আসরে শ্রেষ্ঠ বিদেশী চলচ্চিত্র নমিনেটেড এই অমনিবাস ভৌতিক, দার্শনিক ।
একটি কমন সেটিং/ একই আবহ বা এলাকা নিয়ে এর অ্যানথোলজিঃ
১) New York Stories: ৩টা শর্ট, নির্মাতা মার্টিন স্করসেসি, ফ্রান্সিস ফোর্ড কপোলা, উডি এলান২) Paris, je t'aime: ১৮টা শর্ট, নানান দেশের ২২জন নির্মাতা ( আলফন্সো কুয়ারন, কোয়েন ব্রাদার্স, টম টাইকার, নবুহিরো, ওয়াল্টার স্যালিস, গাস ভন সান্ত প্রমুখ।
৩) Tokyo!: ৩টা শর্ট, ৩ জন নির্মাতা( বং জুন হো, লিওস কারাক্স ও মিশেল গন্ড্রী)
এমনকি “একজন ব্যাক্তিকে কেন্দ্র করে” নিয়ে “একটি নির্দিষ্ট জায়গায়” হতে পারে অ্যানথোলজি ফিল্মঃ
১) Four Rooms: একটি হোটেলে একজন কর্মীর প্রথম কর্মদিবসে ৪টি রুমে ৪ রকম বিচিত্র অভিজ্ঞতার আলোকে ৪ জন নির্মাতা তাদের মতো করে ফুটিয়ে তুলেছেন। নির্মাতাদের মধ্যে আছে রবার্ট রদ্রিগেজ ও কুয়েন্টিন টারান্টিনো।একটি “বস্ত” নিয়ে হতে পারে অ্যানথোলজি ফিল্ম। যেমনঃ
১) জিম জারমুশের Coffee and Cigarettes যেখানে ১১টি শর্ট ফিল্মে চরিত্ররা এই দুটি বস্ত সহযোগে নানান বিষয়ে আলোকপাত করে।২) একটি ২০ ডলার নোটের নানান মানুষের হাতে বিচিত্র বিনিময়ের ঘটনা নিয়ে এগিয়েছে অ্যানথোলজি ফিল্ম Twenty Bucks এর ঘটনা!
সবসময় যে একটি মাত্র কমন ফ্যাক্টর থাকবে অ্যানথোলজি ফিল্মে, এমনও নয়। মাঝে মাঝেই কমন থিম, সেটিং ও ঘটনাসুত্র- এই তিনটি ফ্যাক্টর একে অপরকে স্পর্শ করবে, নানান ভঙ্গিমায় মিশ্রিত করে নতুন নতুন প্রকাশভঙ্গি নিয়ে হাজির হবে।
এছাড়াও দেখতে পারেন কিছু মনোমুগ্ধকর অ্যানথোলজি সিনেমা যা দর্শক হিসেবে আপনাকে অন্যরকম উচ্চতায় নিয়ে যাবেঃ
১) Night On Earth/ জিম জারমুশ (২০০৪)
২) Wild Tales/ ড্যামিয়েন সিফ্রন* ( ২০১৪) (*উচ্চারণ ভিন্ন হতে পারে)
৩) Three...Extremes/(২০০৫)
৪) All The Invisible Children/(২০০৫): রাইডলি স্কট, স্পাইক লি প্রমুখ
৫) 7 Days in Havana (2012)ঃ গ্যাস্পার নোয়া, বেনিসিও ডেল তোরো প্রমুখ
৬) New York, I Love You (2008): নাটালি পোর্টম্যান, মিরা নায়ার প্রমুখ
তৃতীয় অংশঃ যে কারণে অ্যানথোলজি/ অমনিবাস ভিন্ন ঘরানার চলচ্চিত্র
অ্যানথোলজি ফিল্ম কে কম্পোজিট ফিল্ম/ ইন্টারলিংকড স্টোরি( একাধিক গল্পের একটি বিন্দুতে একত্রিত হয় এমন প্লট) এর সাথে কনফিউজ করলে চলবে না। কম্পোজিট ফিল্ম মূলত প্লটকে লিনিয়ার/রৈখিক ভাবে বয়ান/ গঠন করে না। (যেমন পাল্প ফিকশন)। “শুরু-মাঝে-শেষ” এই ফরম্যাট ফলো না করে আগে-পিছে করে, কখনো কখনো একাধিক গল্পের একটি বিন্দুতে মিলনও দেখাতে পারে (যেমন ইনারিতুর “আমোরেস পেরোস”) আবার একই ঘটনা একাধিক বর্নণাকারির পক্ষ থেকে বয়ান করতে পারে (যেমন কুরোসাওয়ার “রশোমন”) অথবা সময় নিয়ে নাড়াচাড়া করতে পারে (যেমন টম টাইকারের “রান,লোলা,রান” যেখানে লোলার প্রতিটি এডভেঞ্চার একেকটি আলাদা স্টোরিলাইন বর্ননা করলেও এটি অমনিবাস চলচ্চিত্র নয় বরং পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র যেখানে পয়েন্ট A থেকে পয়েন্ট Z তে পৌছানোর সরল গল্প না বলে, একাধিক টাইমলাইন ও কামু’র মিথ অফ সিসিফাসের দার্শনিক চিন্তার মিশ্রণ ঘটিয়ে প্লট নিয়ে নাড়াচাড়া করা হয়েছে)। সোজা কথায়, ন্যারেটিভ কন্টিনিউটির আব্বু-আম্মু ঘটানো এইসব সিনেমাকে অমনিবাস বলে ভুল করা যাবে না।
১) পাল্প ফিকশন/ টারান্টিনো
২) ২১ গ্রামস বা আমোরেস পেরোস বা বাবেল( ডেথ ট্রিলোজি)/ ইনারিতু
৩) সিনসিটি/ রড্রিগেজ ও মিলার
৪) ট্রাফিক/ সোডেরবার্গ
৫) প্লিজ ডু নট ডিস্টার্ব/ মোহসেন আব্দুল্ভাফ
৬) রেড ভায়োলিন/ ফ্রাসোয়া জিরার্ড
৭) ক্লাউড এটলাস/ ওয়াচোওয়াস্কিস ও টম টাইকার
৮) ক্র্যাশ/ পল হ্যাগিস
৯) 11:14/ গ্রেগ মার্ক্স
এই পর্যন্ত যারা পড়তে পেরেছেন, অ্যানথোলজি ফিল্ম সম্পর্কে সাধারণ একটি ধারণা অর্জিত হয়েছে, আপনাকে অভিনন্দন! আমি বলছি না, আমার লেখা ধারনাই অ্যানথলজি ফিল্মের চূড়ান্ত সংজ্ঞা তবে অবশ্যই এটি ব্যাসিক একটা ধারণা দিয়েছে বলে আমার বিশ্বাস। দ্বি-মত করুন, দ্বি-মত প্রকাশ করুন, আমি দ্বি-মত গুলো শুনতে চাই। অ্যানথোলজি ফিল্মের এই সুবিশাল জগতে বিচরণপূর্বক অ্যানথোলজি ফিল্মের ব্যাপারে আপনি আপনার মতামত দিতে পারেন।
দেখতে থাকুন সিনেমা, পড়তে থাকুন বই।



Comments
Post a Comment